দৈনিক তরুন আলো

দিগপাইতে মামির সাথে পরকীয়া প্রেমে বিবাহ : দুই বছর পর টাকা আসবাপত্র নিয়ে উধাও ভাগ্নে



দিগপাইতে মামির সাথে পরকীয়া প্রেমে বিবাহ : দুই বছর পর টাকা আসবাপত্র নিয়ে উধাও ভাগ্নে

জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের কলাবাধা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত আহালু মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও প্রতিবেশী বক্তার আলী সম্পর্কে তারা মামি— ভাগ্নে। তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে বিবাহ করে অতঃপর দুই বছর সংসার করার পর হাসিনা বেগমের টাকা পয়সা ও আসবাবপত্র নিয়ে উধাও স্বামী বক্তার আলী। 

ঘটনা সূত্রে জানা যায় : কলাবধা পশ্চিম পাড়া এলাকায় বসবাসকারী আহালু মিয়া (৫০)স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৫) ও দুই ছেলে সন্তান রেখে ৪ বছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর দুই সন্তানের ভরণ পোষণেই চলছিল হাসিনা বেগমের জীবন। মৃত্যুর এক বছর যেতে না যেতেই প্রতিবেশী কলাবাধা গ্রামের মনসুর টিকাদারের মেজো ছেলে প্রবাসী বক্তার আলী (৫০) এর নজর পড়ে হাসিনা বেগমের উপর। 

জানাযায়, বক্তার আলী মামী বলে সম্বোধন করতেন হাসিনা বেগমকে। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায়াই বক্তার আলী কারণে-অকারণে যাতায়াত করতেন হাসিনা বেগমের বাড়িতে। মামি ভাগ্নের সম্পর্কের খাতিরে সবাই ইতিবাচক হিসেবেই দেখতেন তার যাতায়াত। 

হাসিনা বেগমের ভাষ্যমতে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদিন বাড়ির অন্য সদস্যরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার সুযোগে তিনি রাতের বেলায় তার বসত বাড়ির ঘরে গিয়ে ওঠেন এবং তার সাথে জোর জবরদস্তি পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এভাবে কয়েক মাস চলতে থাকে। ঘটনা চলাকালীন হঠাৎ টের পেয়ে যাই বাড়ির অন্য সদস্যরা। অতঃপর এলাকাবাসীর চাপের মুখে বিয়ে করতে বাধ্য হন বক্তার আলী। 

জানাযায়, বক্তার আলীর বিয়ে করা স্ত্রী ও ৩ টি মেয়ে সন্তান আছে এর আগেও সে প্রবাস থেকে বাড়িতে ফিরে তার প্রতিবেশী ভাবিকে বিয়ে করে অতঃপর দীর্ঘ দিন সরিষাবাড়ি'তে ভাড়া বাসা তে সংসার করেন। পরে তার ভাইদের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়ায় মীমাংসিত হয়। 

এ ঘটনা ঘটার পর বাড়ি থেকে বের করে দেন হাসিনা বেগমের দুই সন্তান। হাসিনা বেগমের দুই ছেলে সন্তানই সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তারা তাদের মায়ের অপকর্ম সইতে না পেরে তেজ্য করেন মাকে ও বাড়ি থেকে বের করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় : বিয়ে করার পর দেড় বছর বিভিন্ন জায়গায় তারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। প্রথম অবস্থাতে সাংসারিক খরচ ও ভরণপোষণের কমতি ছিল না হাসিনা বেগমের। তবে, সম্প্রতি তাকে দিয়ে ইটের ভাটায় শ্রমিকদের রান্নার কাজে লাগিয়ে দেয় স্বামী বক্তার আলী। তার পরিশ্রমের টাকায় খরচ চলত সংসারের। 

তবে হঠাৎ করে পরিবর্তন দেখা যায় বক্তার আলীর। সে কারণে-অকারণে অকট্ট ভাষায় গালিগালাজ করতো এবং সুযোগ পেলেই গায়ে হাত তুলতো। তবুও সব মানিয়ে নিয়ে চলতো হাসিনা বেগম। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকদিন বাড়ি ফিরে না বক্তার আলী হঠাৎ মুঠোফোনে জানাই আমি তোকে তালাক দিয়েছি তোর সাথে আর সংসার করবো না আমি আগের স্ত্রীর কাছে এসে পড়েছি। এমতাবস্তায় দিশেহারা হয়ে যায় হাসিনা বেগম। 

ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বলেন, গভীর রাতে লুকিয়ে সে আমার ঘরে প্রবেশ করত এবং আমাকে জিম্মি করে অনৈতিক কাজ করতো। আমি মান সম্মানের ভয়ে কাউকে বলতে পারিনি। তবে চাপের মুখে বিয়ে করলেও এখন আমার সাথে সংসার করতে রাজি নারাজ বক্তার আলী। এ নিয়ে আমাদের মাঝে ঝগড়াঝাঁটি হতো। 

কিছুদিন আগে সে তার প্রথম স্ত্রীর সংসারে চলে যাই। কয়েকদিন পর ফোন দিয়ে বলে আমি তোকে তালাক দিছি। আমি দিশাহারা হয়ে যাই। এর মধ্যে আমি কাজে যাওয়ার সুবাদে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে আসবাব পত্র ও আমার সঞ্চয়কৃত নগদ এক লক্ষ এিশ হাজার টাকা নিয়ে যায় বক্তার আলী। আমার কিছু রাখল না সবকিছু নিয়ে গেছে সে। আমার বাপের বাড়িতেও ঠাই হবে না। ছেলেরা আমাকে ত্যাজ্য করেছে। আমার দুনিয়াতে কেউ রইল না। সবার কাছে আমাকে দোষী বানিয়ে বক্তার আলী আগের সংসারে ফিরে গেল। আমি এখন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।

এই ঘটনায় প্রতিবেদক ও সহকর্মী সাংবাদিকগণ বক্তার আলীর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেও কোন সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার। 

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই নিন্দনীয় ঘটনার সুবিচার কামনা করছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক তরুন আলো

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


দিগপাইতে মামির সাথে পরকীয়া প্রেমে বিবাহ : দুই বছর পর টাকা আসবাপত্র নিয়ে উধাও ভাগ্নে

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image





জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের কলাবাধা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত আহালু মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও প্রতিবেশী বক্তার আলী সম্পর্কে তারা মামি— ভাগ্নে। তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে বিবাহ করে অতঃপর দুই বছর সংসার করার পর হাসিনা বেগমের টাকা পয়সা ও আসবাবপত্র নিয়ে উধাও স্বামী বক্তার আলী। 


ঘটনা সূত্রে জানা যায় : কলাবধা পশ্চিম পাড়া এলাকায় বসবাসকারী আহালু মিয়া (৫০)স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৫) ও দুই ছেলে সন্তান রেখে ৪ বছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।


এরপর দুই সন্তানের ভরণ পোষণেই চলছিল হাসিনা বেগমের জীবন। মৃত্যুর এক বছর যেতে না যেতেই প্রতিবেশী কলাবাধা গ্রামের মনসুর টিকাদারের মেজো ছেলে প্রবাসী বক্তার আলী (৫০) এর নজর পড়ে হাসিনা বেগমের উপর। 

জানাযায়, বক্তার আলী মামী বলে সম্বোধন করতেন হাসিনা বেগমকে। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায়াই বক্তার আলী কারণে-অকারণে যাতায়াত করতেন হাসিনা বেগমের বাড়িতে। মামি ভাগ্নের সম্পর্কের খাতিরে সবাই ইতিবাচক হিসেবেই দেখতেন তার যাতায়াত। 

হাসিনা বেগমের ভাষ্যমতে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদিন বাড়ির অন্য সদস্যরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার সুযোগে তিনি রাতের বেলায় তার বসত বাড়ির ঘরে গিয়ে ওঠেন এবং তার সাথে জোর জবরদস্তি পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এভাবে কয়েক মাস চলতে থাকে। ঘটনা চলাকালীন হঠাৎ টের পেয়ে যাই বাড়ির অন্য সদস্যরা। অতঃপর এলাকাবাসীর চাপের মুখে বিয়ে করতে বাধ্য হন বক্তার আলী। 

জানাযায়, বক্তার আলীর বিয়ে করা স্ত্রী ও ৩ টি মেয়ে সন্তান আছে এর আগেও সে প্রবাস থেকে বাড়িতে ফিরে তার প্রতিবেশী ভাবিকে বিয়ে করে অতঃপর দীর্ঘ দিন সরিষাবাড়ি'তে ভাড়া বাসা তে সংসার করেন। পরে তার ভাইদের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়ায় মীমাংসিত হয়। 


এ ঘটনা ঘটার পর বাড়ি থেকে বের করে দেন হাসিনা বেগমের দুই সন্তান। হাসিনা বেগমের দুই ছেলে সন্তানই সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তারা তাদের মায়ের অপকর্ম সইতে না পেরে তেজ্য করেন মাকে ও বাড়ি থেকে বের করে দেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায় : বিয়ে করার পর দেড় বছর বিভিন্ন জায়গায় তারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। প্রথম অবস্থাতে সাংসারিক খরচ ও ভরণপোষণের কমতি ছিল না হাসিনা বেগমের। তবে, সম্প্রতি তাকে দিয়ে ইটের ভাটায় শ্রমিকদের রান্নার কাজে লাগিয়ে দেয় স্বামী বক্তার আলী। তার পরিশ্রমের টাকায় খরচ চলত সংসারের। 

তবে হঠাৎ করে পরিবর্তন দেখা যায় বক্তার আলীর। সে কারণে-অকারণে অকট্ট ভাষায় গালিগালাজ করতো এবং সুযোগ পেলেই গায়ে হাত তুলতো। তবুও সব মানিয়ে নিয়ে চলতো হাসিনা বেগম। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকদিন বাড়ি ফিরে না বক্তার আলী হঠাৎ মুঠোফোনে জানাই আমি তোকে তালাক দিয়েছি তোর সাথে আর সংসার করবো না আমি আগের স্ত্রীর কাছে এসে পড়েছি। এমতাবস্তায় দিশেহারা হয়ে যায় হাসিনা বেগম। 


ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বলেন, গভীর রাতে লুকিয়ে সে আমার ঘরে প্রবেশ করত এবং আমাকে জিম্মি করে অনৈতিক কাজ করতো। আমি মান সম্মানের ভয়ে কাউকে বলতে পারিনি। তবে চাপের মুখে বিয়ে করলেও এখন আমার সাথে সংসার করতে রাজি নারাজ বক্তার আলী। এ নিয়ে আমাদের মাঝে ঝগড়াঝাঁটি হতো। 


কিছুদিন আগে সে তার প্রথম স্ত্রীর সংসারে চলে যাই। কয়েকদিন পর ফোন দিয়ে বলে আমি তোকে তালাক দিছি। আমি দিশাহারা হয়ে যাই। এর মধ্যে আমি কাজে যাওয়ার সুবাদে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে আসবাব পত্র ও আমার সঞ্চয়কৃত নগদ এক লক্ষ এিশ হাজার টাকা নিয়ে যায় বক্তার আলী। আমার কিছু রাখল না সবকিছু নিয়ে গেছে সে। আমার বাপের বাড়িতেও ঠাই হবে না। ছেলেরা আমাকে ত্যাজ্য করেছে। আমার দুনিয়াতে কেউ রইল না। সবার কাছে আমাকে দোষী বানিয়ে বক্তার আলী আগের সংসারে ফিরে গেল। আমি এখন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।


এই ঘটনায় প্রতিবেদক ও সহকর্মী সাংবাদিকগণ বক্তার আলীর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেও কোন সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার। 


এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই নিন্দনীয় ঘটনার সুবিচার কামনা করছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।




দৈনিক তরুন আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: এমডি সিফাত হোসাইন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক তরুন আলো