কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দাখিল-২০২৪ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বিতরণে বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বরখাস্তকৃত সুপার মো. সাইদুর রহমানকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
রোববার দুপুরে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিয়োগ জালিয়াতি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. সাইদুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর মৌলভী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত সুপার একাধিকবার অফিসের কাগজপত্র বুঝে নিতে চাইলে বরখাস্ত সুপার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে এডহক কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে আলমারির তালা খুলে রেজুলেশনের মাধ্যমে কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়। তবে হস্তান্তরিত নথির মধ্যে ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষার সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সুপার সাইদুর রহমানের সিল ও স্বাক্ষরে ১৬টি মূল সার্টিফিকেট উত্তোলন করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তার কাছে সার্টিফিকেট চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলে ইউএনও দ্রুত সার্টিফিকেট বিতরণের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।
রোববার ব্যক্তিগত কাজে মাদ্রাসায় এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং সার্টিফিকেটের দাবি জানান। একপর্যায়ে তিনি সরে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি জানান, ঘটনাটি তাদের জানা থাকলেও এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, তিনি বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে তা কেন কার্যকর হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, বরখাস্ত সুপার সাইদুর রহমান দাবি করেন, তার অনুপস্থিতিতে অফিসের তালা ভেঙে কাগজপত্র ভারপ্রাপ্ত সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সার্টিফিকেট সেখানেই ছিল। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এ দাবি নাকচ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ওই সার্টিফিকেটগুলো হস্তান্তর করা হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করায় প্রতিশোধমূলকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
##
মোঃ রাহিজুল ইসলাম
০১৬১৩০১০২৬৯
১৯.০৪.২০২৬

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দাখিল-২০২৪ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বিতরণে বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বরখাস্তকৃত সুপার মো. সাইদুর রহমানকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
রোববার দুপুরে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিয়োগ জালিয়াতি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. সাইদুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর মৌলভী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত সুপার একাধিকবার অফিসের কাগজপত্র বুঝে নিতে চাইলে বরখাস্ত সুপার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে এডহক কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে আলমারির তালা খুলে রেজুলেশনের মাধ্যমে কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়। তবে হস্তান্তরিত নথির মধ্যে ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষার সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সুপার সাইদুর রহমানের সিল ও স্বাক্ষরে ১৬টি মূল সার্টিফিকেট উত্তোলন করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তার কাছে সার্টিফিকেট চাইলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলে ইউএনও দ্রুত সার্টিফিকেট বিতরণের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।
রোববার ব্যক্তিগত কাজে মাদ্রাসায় এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং সার্টিফিকেটের দাবি জানান। একপর্যায়ে তিনি সরে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি জানান, ঘটনাটি তাদের জানা থাকলেও এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, তিনি বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে তা কেন কার্যকর হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, বরখাস্ত সুপার সাইদুর রহমান দাবি করেন, তার অনুপস্থিতিতে অফিসের তালা ভেঙে কাগজপত্র ভারপ্রাপ্ত সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সার্টিফিকেট সেখানেই ছিল। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এ দাবি নাকচ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ওই সার্টিফিকেটগুলো হস্তান্তর করা হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করায় প্রতিশোধমূলকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
##
মোঃ রাহিজুল ইসলাম
০১৬১৩০১০২৬৯
১৯.০৪.২০২৬

আপনার মতামত লিখুন